দূর থেকেও অপরের পাশে থাকা যায়, বার্তা সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: করোনার আতঙ্ক এবং তাঁর জন্য সচেতনতা বিশ্ববাসীর মধ্যে আজ করছে। এই দুঃসময়ে মনোবল ধরে রাখা জরুরি। সামাজিক দূরত্বে মধ্যে র‍্যেছেন সকলেই। দুর্দিনে অপরের পাশে থাকা যেন হয়ে ওঠে সকলের জয়গান। এমনটাই জানালেন সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার প্রাপ্ত সাহিত্যিক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়। সরকারি নিষেধ মেনে এখন তিনি বাড়িতেই থাকছেন সারাদিন।

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, “ভাইরাস এবং ভয় দুটো একবারে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত। ভয়ের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ভয় হচ্ছে মৃত্যু ভয়। মানুষ এখন যে কোনও মুহূর্তে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মরে যেতে পারে। তারপরও একটা ভয় আছে। মরে যাওয়ার পরে সেই মৃত ব্যক্তি আরও কয়েক জনের মৃত্যুর পথ তৈরি করে রেখে যেতে পারে। এই যে ইনফেকশন এই যে ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা এটা আসলে ভয়ংকর। কতদূর যাবে? সমগ্র সভ্যতাটাকে লোপাট করে দেবে না তো! যাকে চোখে দেখা যায় না। যার সঙ্গে লড়াই করা যায় না অন্যভাবে।

যতক্ষণ না পর্যন্ত ওষুধ বের হচ্ছে। একেই বলে এই আতঙ্ক। করোনা এখন সর্বগ্রাসী হয়ে আমাদের জাতীয় জীবনের উপর চেপে বসে সবকিছু প্রায় অচল করে দিতে চলেছে।

মনে পড়ছে উনিশশোর শেষের দিকে যখন প্লেগ মহামারী হয়ে দেখা দিল তখন মানুষ কী করেছিল। তখন এত ওষুধ বেরয়নি। মেডিকেল সাইন্স তখন আস্তে আস্তে শক্তিশালী হচ্ছে। তখন একটি মাত্র পদ্ধতি ছিল যে পদ্ধতিতে আমরা এখন অবলম্বন করেছি– কোয়ারেন্টাইন। কিন্তু সেই সময় আমরা কি দেখেছিলাম স্বামী বিবেকানন্দের আহ্বানে বিদেশ থেকে এলেন সিস্টার নিবেদিতা। তিনি বাজারের রাস্তা নিজে ঝাঁটা দিয়ে পরিষ্কার করছেন। আর ঐতিহাসিক যদুনাথ সরকার মহাশয় বোধ হয় বাজারে যাচ্ছিলেন দেখে অবাক। এক বিদেশিনী কলকাতার জঞ্জাল পরিষ্কার করছেন। তিনি ভাবতে লাগলেন ইনিই কি সেই নারী? যে নারী ভারতবর্ষের সেবা করার জন্য স্বামীজীর আহ্বানে আমাদের দেশে এসেছেন?

এই শুরু হল বিপর্যয়ের সময় কিভাবে মানুষ সমাজসেবী হয়ে উঠতে পারে, কিভাবে মানুষ নিজের স্বার্থ ত্যাগ করতে পারে, কিভাবে নিজের সঞ্চয় জাতীয় প্রয়োজনে দান করতে পারে– এই সমস্ত কিন্তু তখন তৈরি হয়েছিল। আর এর থেকেই তৈরি হয়ে উঠেছিল বেলুড় মঠ। স্বামী বিবেকানন্দের নেতৃত্বে মঠ এবং মিশন। মিশন মানে হচ্ছে, কার্যধারা, জনসেবা, জীবসেবা। আর মঠ হল একটি ধর্মের ভিত্তি। এই যে মঠ এবং মিশন। একটা সাঁড়াশির যেমন দুটো দ্বারা থাকে। এই দুটো তেমনি। একটা বিরাট ক্ষেত্র তৈরি হয়েছিল।

বোমা দিয়ে বন্দুক দিয়ে গুলি দিয়ে আমরা শত্রু নিপাত করতে পারি। কিন্তু, যে শত্রুকে দেখতে পাওয়া যায় না যেমন দারিদ্র। যেমন এই ধরনের অসুখের আতঙ্ক, এই ধরনের মহামারি এগুলোর সঙ্গে মানুষ কিভাবে লড়াই করবে? বন্দুক কামান এখানে অচল। এখানে দরকার সেবা। কার সেবা করবেন? যারা নিজের জীবনকে তুচ্ছ করতে জানেন। ‘পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি এ জীবন মন সকলি দাও’। আমার সবকিছু তুমি নিয়ে নাও। আমি আমার মৃত্যুর জন্য ভিত নই কিন্তু তুমি সুস্থ হও। দেশ তুমি জেগে উঠো। সেটাকে তো আমরা আবার আরাধনা করতে পারি। এই মুহূর্তে যে জিনিসটা আমাদের মধ্যে ভয়ঙ্কর প্রয়োজন, আমরা হয়তো দৈহিকভাবে করমর্দন করব না। কিন্তু অন্তর দিয়ে অন্তরের সঙ্গে মিলে তার সমস্যা তার উৎকণ্ঠা অনুভব করব এবং দূরে থেকে তাকে সাহস দেব। সম্মানজনক দূরত্বে অবস্থান করে তাকে বলতে থাকব– ভয় নাই, ওরে ভয় নাই-/ নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান/ ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই।”

The post দূর থেকেও অপরের পাশে থাকা যায়, বার্তা সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper.



from Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper https://ift.tt/33WJzuZ
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post