প্রয়োজন সবুজের, মন্দির মসজিদে গিয়ে গাছ দত্তক নেওয়ালো ওঁরা

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : ঝড়ের কোনও জাত হয় না। সে যখন ধ্বংসলীলা চালায় তখন কোনও এ ধর্ম ও ধর্ম দেখে না। যাকে সামনে পায় তুলে নিয়ে আছড়ে ফেলে। হিন্দু পাড়ার গাচগ উলটেছে তা মুসলিম বাড়ির চাল উড়ে গিয়েছে এসব ভাবনার বাইরে। তেমনটাই হয়েছে আমফানের ক্ষেত্রেও। এদের বাড়ির চাল গিয়েছে তো ওঁদের বাড়ির চালচুলো সব নিয়ে গিয়েছে ঝড়। এমন সময়ে প্রয়োজন বৃক্ষের লালন পালন। সেই ভাবনা থেকেই হিন্দুর মন্দির থেকে মুসলিমের মসজিদে গিয়ে গাছ দত্তক দিয়ে এল এক দল পরিবেশপ্রেমী।

দাবী, মানুষের জখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায় তখন ঈশ্বর বা আল্লার কাছে প্রার্থনা করে। আমফান পরবর্তী সমইয়ে বৃক্ষরোপণের ব্যাপক প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এখন যদি ধর্মীয় স্থানে গিয়ে কেউ দেখেন যে মন্দিরের পুরোহিত কিংবা মসজিদের ইমাম বৃক্ষ রোপণ করেছেন বা গাছের পরিচর্যা করছেন তাহলে সমাজে যে বার্তা যাবে তা শুধুই সবুজের। সেই ভাবনা থেকেই ‘হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চ’ গাছ দত্তক দিয়ে এল মন্দিরে মসজিদে। ইচ্ছে রয়েছে শ্মশান , গোরস্থানে গিয়ে বেশি করে নিজেরা বৃক্ষ রোপণ করে আসবেন। এর কারন কী? ‘হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চ’-এর সদস্যরা জানাচ্ছেন, ‘রাস্তার ধারে যে সব গাছ পোঁতা হয়েছে সেগুলি যে কোনও সময়েই ছোট অবস্থায় নষ্ট জয়ে যেতে পারে। গাড়ি , ঘোড়ার উৎপাত প্রচুর। তুলনামূলক শান্ত স্থান শ্মশান , কবরস্থান। এখানে গাছেরা নিজেদের মতো বেরে ওঠে। সেখান ঠেকে ওঁদের ছরিয়ে পরার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই এমন ফাঁকা জায়গা আমরা বেছে নিয়ে চাইছি।’

সংগঠনের পক্ষে শুভদীপ ঘোষ জানিয়েছেন, ‘আমাদের মোট ৩২টি সাথী সংগঠন রয়েছে। উল্লেখযোগ্য সাথী সংগঠন ‘অনুভব’। সবাই মিলে আমরা এই কাজ করছি। সবার উদ্যোগে জেলা জুড়ে আমফান পরবর্তী সময়ে যে বিশাল বৃক্ষোচ্ছেদে ঘটনা ঘটেছিল, তার মোকাবিলায় ব্যাপক ভাবে গাছ দত্তক দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন মানুষকে।’ একইসঙ্গে তিনি বলেন , ‘অনেক সময় দেখা যায় যে গাছ লাগানোর পরেই সেই গাছ নিয়ে আর কোনও আগ্রহ থাকেনা। সে গাছ বেঁচে আছে না মারা গেছে খবরই রাখেনা অনেকে। তাছাড়া গাছ মারা যায় নানা কারণে। কখনও গবাদি পশুর আক্রমণ, কখনও জল না পেয়ে মরে যায় সাধের বসানো গাছগুলো। তাই গাছের লালনপালন যাতে ভাল করে মানুষ নিজেই করে সেই জন্য গ্রামীণ হাওড়ায় প্রায় ১০০০০ গাছকে দত্তক দেওয়া শুরু হয়েছে। ৫জুন ঠেকে এই কার্যক্রম চালু করেছি। শ্মশান, মন্দির, মসজিদ যে কোনও প্রতিষ্ঠান নিতে পারবে দত্তক। তবে শর্ত গাছকে সন্তান স্নেহে যত্নে বড় করতে হবে। গাছগুলির খবর রাখবে মঞ্চ ও সাথী সংগঠনরা। গাছ গুলিতে জীব বৈচিত্র্যের আলাদা জায়গা থাকবে। কোন কীটনাশক বা কৃত্তিম সার ব্যাবহার করা চলবে না। এই শর্তে লাগানো হবে ৫০ টি ভারতীয় প্রজাতির গাছ।’

The post প্রয়োজন সবুজের, মন্দির মসজিদে গিয়ে গাছ দত্তক নেওয়ালো ওঁরা appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper.



from Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper https://ift.tt/3eS2tHA
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post