নয়াদিল্লি: লাল কেল্লায় প্রত্যেকবার প্রকাশ্যে ভাচষণ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই নিয়ে সপ্তমবার সেই ‘আইকনিক’ ভাষণ দিলেন তিনি। আর তাঁর সেই ভাষণে নিরাপত্তা ছিল চরমে। একাধিক স্তরে নিরাপত্তা ছিল এদিন। রাজধানীতে মোতায়েন করা হয়েছিল ৪,০০০ নিরাপত্তারক্ষী। আর এই নিরাপত্তা বলয়ের অন্যতম অংশ ছিল ডিআরডিও-র তৈরি অ্যান্টি ড্রোন সিস্টেম।
এদিন লালকেল্লার কাছেই বসানো ছিল সেই সিস্টেম। দূর থেকে যে কোনও ড্রোন এগোলেই এটি তা ডিটেক্ট করতে পারবে। জানা গিয়েছে, তিন কিলোমিটার পর্যন্ত দূর থেকে আসা মাইক্রো ড্রোন চিহ্নিত করতে পারবে এই সিস্টেম। আর এতে রয়েছে এমন সিস্টেম,যাতে লেজারের সাহায্য আড়াই কিলোমিটার দূরের টার্গেটকেও মাটিতে ফেলে দেবে।
এদিন কোথাও ইউনিফর্ম পরে আবার কোথাও সাদা পোশাকে মোতায়েন ছিলেন নিরাপত্তারক্ষীরা। বিশেষ ফেসিয়াল রেকগনিশন সিস্টেম রাখা হয়েছিল, যাতে উপস্থিত অতিথিদের উপর নজর রাখা যায়। সেইসঙ্গে করোনা পরিস্থিতির জন্য সবরকম গাইডলাইন মানা হয় এদিন।
নিরাপত্তায় জোর দিতে এদিন দিল্লি পুলিশ আশেপাশের একাধিক রাজ্যের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রেছিল। হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, পঞ্জাব, মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, বিহার ও কাশ্মীরের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছিল। লালকেল্লার আশেপাশে উপস্থিত ছিল এনএসজি, এসপিজি ও আইটিবিপি-র সদস্যরা।
ইনস্টল করা হয়েছিল ৩০০ ক্যামেরা। আর সর্বক্ষণ সেইসব ক্যামেরার ফুটেজে নজর রাখা হচ্ছিল।
এদিন লালকেল্লা থেকে একাধিক বিষয়ে বার্তা দেন নরেন্দ্র মোদী। আত্মনির্ভর ভারতের কথা ছিল এদিন তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে। মোদী বলেন, স্বাধীন ভারতের সংকল্প হওয়া উচিৎ Vocal For Local. আমাদের দেশে যা তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে আমাদের গর্ব থাকা উচিৎ। তাঁর কথায়, আত্মনির্ভরতা মানে শুধু নেই নয় যে আমরা বাইরে থেকে আমদানি কমাব, সেইসঙ্গে আমাদের নিজস্ব সৃজনশীলতা বাড়াতে হবে।
ডিজিটাল হেলথ মিশনের কথাও ঘোষণা করেন তিনি। দেশের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এর ফলে বিপ্লব ঘটতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সেই মিশনে প্রত্যেক ভারতবাসীখে একটি হেল্থ আইডি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। মোদী জানিয়েছেন প্রত্যেককে দেওয়া হবে হেল্থ আইডি। আর সেই আইডি-তেই থাকবে ওই ব্যক্তির স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সব তথ্য। কোন চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন, কী ওষুধ খাচ্ছে, স্বাস্থ্যে কী কী সমস্যা আছে, সবটাই থাকবে সেই আইডিতে।
তাঁর বক্তব্য ছিল করোনার ভ্যাক্সিনের কথা। তিনি বলেন, বর্তমানে তিনটি ভ্যাক্সিন পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আছে। এখন অপেক্ষা শুধু গ্রিন সিগন্যালের। শনিবার বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেছেন, আত্মনির্ভর ভারতে দেশের মধ্যেই তৈরি হচ্ছে করোনা ভাইরাসের তিনটি ভ্যাকসিন। যা টেস্টিং-এর পর্যায়ে আছে। যত তাড়াতাড়ি বিজ্ঞানীরা সবুজ সংকেত দেবেন তত তাড়াতাড়ি ভ্যাকসিনের উৎপাদন শুরু করবে ভারত। প্রচুর পরিমানে ভ্যাক্সিন উৎপন্ন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
The post লেজারে দূরের ড্রোনকেও ফেলে দিতে পারে, মোদীর নিরাপত্তায় ছিল DRDO-র অ্যান্টি ড্রোন সিস্টেম appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper.
from Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper https://ift.tt/3kG50IC