স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ৩ বছরের অজ্ঞাতবাসের পর বুধবার কলকাতায় এসে চমক দিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুং। ঘোষণা করলেন, বিজেপির সঙ্গ ত্যাগ করে এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের সঙ্গে জোট করতে চান। মুখ্যমন্ত্রীর আসনে ফের মমতাকেই দেখতে চান। কিন্তু কী এমন হল যে গুরুং এমন ভোল বদলালেন?
সূত্রের খবর, মাস তিনেক আগে থেকে বিমল গুরুংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয় তৃণমূলের। মাঝে দিল্লিতে প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে বৈঠকও হয় তাঁর। তারপরও একাধিকবার কথা হয়েছে। শিলিগুড়িতে প্রশান্ত কিশোর ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক হয় বিমল গুরুংয়ের প্রতিনিধিদের। গত এক মাস ধরে গুরুংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছিলেন রাজ্যের এক মন্ত্রী। আসানসোলের ওই নেতার সঙ্গে ঝাড়খন্ডে বৈঠক হয়েছে বিমল গুরুংয়ের।
বুধবার দুপুরে ওই মন্ত্রীর একটি কোয়ার্টারে যান বিমল গুরুং। সেখানে প্রশান্ত কিশোরও ছিলেন। ওই বৈঠকেই চূড়ান্ত হয় সাংবাদিক বৈঠক করবেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা।
এক মাস আগে থেকেই রাজনৈতিক পরিসরে জল্পনা ছিল যে গুরুং তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। কিন্তু তখন গুরুং সে কথা বেমালুম অস্বীকার করেন। এমনকি একটি অডিও বার্তায় বলেন, তাঁর নামে মিথ্যা কথা ছড়ানো হচ্ছে।
এদিন গুরুং বলেন, “আমি কেন্দ্রে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট তথা এনডিএ-র শরিক। কিন্তু আজ এই মুহূর্ত থেকে এনডিএ ছাড়ছি।”
কিন্তু কেন মমতার শরণাপন্ন হলেন বিমল গুরুং? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিজেপির সঙ্গে থেকে লাভ হচ্ছিল না গুরুংয়ের। মামলা থেকে মুক্তি পাচ্ছিলেন না তিনি। আবার গোর্খাল্যান্ড নিয়েও বিজেপি ইঙ্গিত দেয়নি। সে কারণে তৃণমূলের সঙ্গে ছাড়া বিমলের পাহাড়ে ফেরার অন্য উপায় ছিল না বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।
উল্লেখ্য, লোকসভা ভোটের সময়েও গুরুং প্রকাশ্যে আসতে পারেননি। তবে তাঁর প্রত্যক্ষ সমর্থন ছিল দার্জিলিংয়ের বিজেপি প্রার্থী রাজু বিস্তের উপর। এদিকে সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। সেখানে উত্তরবঙ্গের গোর্খা ভোট ফ্যাক্টর। অন্তত ১২টি বিধানসভা আসনে প্রভাব ফেলতে পারেন বিমল গুরুং। ফলে তৃণমূলেরও দরকার গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতাকে।
এদিন সাংবাদিক সম্মেলন করে গুরুং বলেন, আমি এখনো মনে করি গোর্খাল্যান্ড গঠনের মাধ্যমেই আমাদের সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান সম্ভব। তাই যে দল আমাদের দাবিকে সমর্থন করবে আমরা তাকেই সমর্থন করব।
এর পরই বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলে গুরুং বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার গোর্খাল্যান্ড গঠনের আশ্বাস দিলেও ৬ বছরে সেই দাবি পূরণ হয়নি। তাই আমরা বিজেপির সঙ্গ ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এপ্রসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, এ হল সুবিধাবাদী রাজনীতি। এই ধরনের লোকেদের কেউ বিশ্বাস করে না।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করে গুরুং বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদর্শ নেত্রী। আমরা চাই ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী দেখতে চাই মমতাকে। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সঙ্গে লড়তে চাই।
The post দিল্লি-ঝাড়খণ্ডে গুরুংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন পিকে ও রাজ্যের এক মন্ত্রী: সূত্র appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper.
from Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper https://ift.tt/3dNLZ3X