নয়াদিল্লি : কোনওভাবেই ভারতে করোনার কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বা গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়নি। ২০ জুলাই, সোমবার এই সংক্রান্ত সব রিপোর্টকেই ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিল ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বা আইএমএ। সোশ্যাল মিডিয়ায় যে কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বক্তব্য ঘুরে বেড়াচ্ছে, তার কোনও যুক্তি নেই, ভিত্তি নেই বলে এদিন পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে আইএমএ।
এই সংস্থা জানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় কমিউনিটি ট্রান্সমিশন সংক্রান্ত তথ্য ভুয়ো খবর। কোনও ভাবেই আইএমএ এই তথ্য বা খবরের সঙ্গে যুক্ত নয়। আইএমএ এরকম কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি। এই খবরের কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তিও নেই। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ব্যক্তিগত স্তরে কিছু মানুষ এই ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছে। ভারতে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হওয়ার কোনও লক্ষ্মণ এখনও দেখা যায়নি।
তথ্য ও পরিসংখ্যান প্রকাশ করে আইএমএর বক্তব্য, করোনা মূলত ছড়াচ্ছে শহর কেন্দ্রিক এলাকায়। গ্রাম্য এলাকা, যেখানে খোলা মুক্ত পরিবেশ, সেখানে করোনার সংক্রমণ প্রা. নেই বললেই চলে।
উল্লেখ্য ১৮ই জুলাই আইএমএ হসপিটাল বোর্ড অফ ইন্ডিয়ারে চেয়ারপার্সন ড. ভিকে মংগা বলেন, ‘বর্তমানে সংক্রমণ ক্রমশ ব্যাপক হারে বেড়ে চলেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেক দিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩০,০০০ করে বাড়ছে। এটা সত্যই খুব খারাপ পরিস্থিতি। গ্রামাঞ্চলে করোনা ছড়াতে শুরু করেছে। এটা খারাপ লক্ষণ। কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়ে গিয়েছে।’
ড, মংগা আরও বলেন, ‘এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন।’ তিনি জানিয়েছেন, দিল্লির মত জায়গায় হয়ত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, কেরল, গোয়া কিংবা মধ্যপ্রদেশের মত রাজ্যে প্রত্যন্ত এলাকায় কীভাবে নিয়ন্ত্রণ হবে, তা কেউ জানে না।
শ্রী গঙ্গারাম হাসপাতালে চেস্ট সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. অরবিন্দ কুমার বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরেই ভারতে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন চলছে। ধারাভি সহ দিল্লির বেশ কিছু জায়গায় গোষ্ঠী সংক্রমণ হয়েছে। আমি আইএমএ-র সঙ্গে ১০০ শতাংশ সহমত।’ তবে ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়নি, এক একটা ছোট ছোট জায়গায় এই সংক্রমণ হয়েছে।
এদিকে, গোটা দেশে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে করোনা। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ সংক্রমণের নয়া রেকর্ড। একদিনে করোনা আক্রান্ত হলেন ৪০ হাজারের বেশি মানুষ। এরই পাশাপাশি করোনা আক্রান্ত হয়ে গোটা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে করোনা আক্রান্তর সংখ্যা ১১ লক্ষের গণ্ডি পার করেছে।
সোমবার সকাল পর্যন্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুয়ায়ী দেশে নোভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১১ লক্ষ ১৮ হাজার ৪৩। দেশে করোনায় মৃত বেড়ে ২৭ হাজার ৪৯৭। এখনও পর্যন্ত দেশে করোনা অ্যাক্টিভ কেস ৩ লক্ষ ৯০ হাজার ৪৫৯টি। ৭ লক্ষেরও বেশি মানুষ করোনামুক্ত হয়েছেন।
The post ভারতে করোনার গোষ্ঠী সংক্রমণের তত্ব নাকচ আইএমএ-র appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper.
from Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper https://ift.tt/2OGwn6u