স্টাফ রিপোর্টার,মহিষাদল: বীরভূম জেলার কীর্ণাহার থেকে রাইসিনা হিলস। খুব কম রাস্তা নয়। ঘটনাবহুল সেই পথচলা শেষ হল। সোমবার ৮৪ বছর বয়সে চলে গেলেন দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। তাঁর মৃত্যুতে অপূরণীয় ক্ষতি হল দেশের. রত্নহীন হল ভারত।
প্রণব মুখোপাধ্যায় ছিলেম দেশের ত্রয়োদশ রাষ্ট্রপতি। ২০১২ সালের জুলাই মাসে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেশের কার্যভার গ্রহণ করেছিলেন তিনি। তাঁর রাজনৈতিক কর্মজীবন ছয় দশকব্যাপী। তিনি ছিলেন ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের একজন প্রবীণ নেতা। বিভিন্ন সময়ে ভারত সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন তিনি। ২০১২ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে প্রণব মুখোপাধ্যায় ছিলেন ভারতের অর্থমন্ত্রী ও কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় সমস্যা-সমাধানকারী অন্যতম এক নেতা।
দেখে নিন একনজরে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রায় ৬ দশক:
১৯৩৫ সালের ১১ ডিসেম্বর বাংলার বীরভূম জেলার মিরাটির কীর্ণাহার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি। বাবা ছিলেন কামদাকিংকর মুখোপাধ্যায় এবং মায়ের নাম ছিল রাজলক্ষী দেবী। ছোটোবেলা থেকেই পড়াশুনায় অঅত্যন্ত মেধাবী ছিলেন তিনি। রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ছিলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের
পড়া শেষে কর্মজীবন শুরু হয় ডাক ও তার বিভাগে।পরে বিধাননগর কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে বেশকিছু বছর অধ্যাপনায় নিযুক্ত ছিলেন তিনি।
১৯৬৯ সালে নির্দল প্রার্থীর হয়ে প্রচার করতে গিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ। মেদিনীপুর বাই ইলেকশনে প্রচারের জোরে প্রণব মুখোপাধ্যায় একা হাতে জিতিয়ে দিয়েছিলেন ভি কে কৃষ্ণ মেননকে। তারপরই ইন্দিরা গান্ধীর নজরে আসেন তিনি। কার্যত ইন্দিরা গান্ধী হাত ধরেই জাতীয় কংগ্রেসে প্রবেশ তাঁর। আর এখান থেকেই শুরু তাঁর দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক জীবনের নানা উত্থানপতন।
১৯৬৯ সালে কংগ্রেস দল থেকে প্রথম রাজ্যসভার সদস্য হয়েছিলেন তিনি। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে মোট পাঁচবার(১৯৬৯,১৯৭৫,১৯৭১,১৯৯৯) রাজ্যসভার সদস্য হয়ে ছিলেন তিনি।
এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ থেকে চারবার এবং গুজরাট থেকে একবার রাজ্যসভার সদস্য হয়েছিলেন।১৯৭৩ সালে সর্বপ্রথম কেন্দ্রে শিল্পোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী হন। এরপর ১৯৭৪ সালে জাহাজ ও পরিবহন দফতরের মন্ত্রী হন।
কেন্দ্রের অর্থ দফতরের রাষ্ট্র মন্ত্রী হন ১৯৭৪ সালে এবং কেন্দ্রের রাজস্ব ও ব্যাঙ্কিং দফতরের মন্ত্রী হন ১৯৭৫ সালে। কংগ্রেসের All India Congress committee কোষাধ্যক্ষ সদস্য হন ১৯৭৮ সালে।
১৯৮০ সালে রাজ্যসভায় কংগ্রেসের দলনেতা হন। ওই একই বছর কেন্দ্রীয় বানিজ্য এবং খনি ও ইস্পাত মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। ১৯৮২ সালে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রী হন. একই বছর আন্তর্জাতিক অর্থ ভান্ডারের(IMF) বোর্ড অফ গভর্নরস হন।
১৯৮২ সালেই বিশ্ব ব্যাঙ্কের(World Bank) বোর্ড অফ গভর্নরস হন। এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্কের(ADB) বোর্ড অফ গভর্নরস হন। আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাঙ্কের(ADB) বোর্ড অফগভর্নরস হন।
১৯৮৪ সালপ কেন্দ্রীয় বানিজ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী হয়েছিলেন। সেই বছরই জি-২৪ এর সভাপতি নিযুক্ত হন। পঃবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি হন তিন বার (১৯৮৫,২০০০,২০০১)সালে।
১৯৮৬ সালে রাজীব গান্ধীর সঙ্গে মনোমালিন্যের জন্য নতুন দল রাষ্ট্রীয় সমাজবাদী কংগ্রেস(RSC) গঠন করেন। ১৯৮৭ সালে এআইসিসি – এর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সেলের সভাপতি হন এবং ১৯৮৯ সালে পুনরায় রাজীব গান্ধীর হাত ধরে কংগ্রেসে যোগদান করেন তিনি।
১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাও কর্তৃক পরিকল্পনা কমিশনের সহ-সভাপতি নিযুক্ত হন। ১৯৯৩ সালে কেন্দ্রীয় বানিজ্য মন্ত্রী হন। কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রী নিযুক্ত হন দুবার ১৯৯৫ এবং ২০০৬ সালে।
১৯৯৫ সালে সার্কের মন্ত্রী পরিষদের সম্মেলনের সভাপতি হন। সর্ব ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সাধারন সম্পাদক হন ১৯৯৮ সালে।
১৯৯৯ সালে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী সমন্বয় কমিটির সভাপতি হন।
২০০৪ সালে সর্বপ্রথম চতুর্দশ লোকসভা নির্বাচনে জয়লাভ করেন। (কেন্দ্র-জঙ্গীপুর,মুর্শিদাবাদ,পঃবঙ্গ)।
সেই বছরই লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা হন।২০০৪ সালে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নিযুক্ত হন। ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার পঞ্চদশ লোকসভা নির্বাচনে জয়লাভ করেন (কেন্দ্র-জঙ্গীপুর,মুর্শিদাবাদ,পঃবঙ্গ)।
২০০৯ সালে পুনরায় কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রী নিযুক্ত হন। একই বছর পুনরায় জি-২৪এর সভাপতি নিযুক্ত হন।
২০১২ সালের ২২ জুলাই সর্বপ্রথম বাঙালী রাষ্ট্রপতি হিসাবে নির্বাচিত হন। ত্রয়োদশতম রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ গ্রহন করেন ২৫ জুলাই।
তিনি এনডিএ জোটের প্রার্থীকে পরাজিত করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। জোট প্রার্থী সাংমা লোকসভার প্রাক্তন স্পীকার ছিলেন।
২০১৫ সালে কংগ্রেস সরকারের ৬৪ বছরের পরিকল্পনা অবলুপ্ত করে নীতি আয়োগ গঠনের সাক্ষী হন।
মোদী সরকারের বাংলা দেশের সঙ্গে ছিটমহল চুক্তি সম্পাদনের জন্য ১০৯ তম সংবিধান সংশোধনের সাক্ষী হন একই বছর।
২০১৬ সালের আগস্ট মাসে সরকারের জিএসটি বিল পাস করার জন্য ১০১ তম সংবিধান সংশোধনের সাক্ষী ছিলেন তিনি।
এছাড়াও তিনি সরকারের পাকিস্তানের মাটিতে জঙ্গী নিধনের জন্যে সেদেশের মধ্যে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, জিএসটি, নোট বাতিলের মতো ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের সাক্ষী ছিলেন।
তাঁর প্রাপ্ত উপাধি ও সম্মান গুলি হল:-
১. ১৯৮৪ সালে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অর্থমন্ত্রী সম্মান।
২.২০০৮ সালে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্মভূষন।
৩. ২০১১ সালে ভারতের শ্রেষ্ঠ প্রশাসকের সম্মান।
৪। বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফপ ৮ টি সাম্মানিক ডক্টরেট উপাধি পেয়েছিলেন।
৫. ২০১২ সালপ আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্মানিক ডি.লিট উপাধি পান।
৬. ২০১৩ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্মান।
৭. ২০১৬ সালে আইভরি কোস্ট সরকারের গ্রান্ড ক্রস সম্মান।
৮. ২০১৮ সালপ আবাইজান রাষ্ট্রের সাম্মানিক নাগরিকত্বের সম্মান।
প্রাক্তন এই বাঙালি রাষ্ট্রপতির লেখা বিভিন্ন গ্রন্থ সমূহ গুলি হল:-
1. Midterm Poll.
2. Beyond Survival.
3. Off the Track.
4. Saga of Struggle and Sacrifice.
5. Challenges before the Nations.
6. A Centenary History of the INC.
7. Congress and the Making of the Indian Nation.
8. Thought and Reflections.
9. The Dramatic decade:The indira Gandhi years.
10. Selected Speeches.
11. The Turbulent Years.
The post প্রয়াত দেশের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি, ফিরে দেখা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সেরা ছয় দশক appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper.
from Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper https://ift.tt/32Xs3XB