চিত্রনাট্যকার রূপে জীবনের একটা সময় কেটেছে শরদিন্দু বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের

সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়:আজও তাঁর সৃষ্টি ব্য়োমকেশ চরিত্রটি বাঙালির কাছে খুবই জনপ্রিয় । কিন্তু সাহিত্যিক শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনের একটা বড় সময় কাটাতে হয়েছে সিনেমার চিত্রনাট্যকার হিসেবে। শরদিন্দু ১৯৩৮ সালে বম্বে টকিজ এ চিত্রনাট্যকাররূপে কাজ শুরু করেন। ১৯৫২সালে সিনেমার কাজ ছেড়ে স্থায়ীভাবে পুনেতে বসবাস করতে শুরু করেন। পরবর্তী ১৮ বছর তিনি সাহিত্য চর্চায় অতিবাহিত করেছিলেন।

১৮৯৯ সালের ৩০ মার্চ শরদিন্দুর জন্ম উত্তরপ্রদেশের জৌনপুর শহরে তাঁর মামারবাড়িতে। তাঁর আদিনিবাস উত্তর কলকাতার বরাহনগর কুঠিঘাট অঞ্চল। তাঁর রচিত প্রথম সাহিত্য প্রকাশিত হয় তার ২০ বছর বয়সে, যখন তিনি কলকাতায় বিদ্যাসাগর কলেজে পড়াশুনো করছিলেন। তখন পড়াশুনোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি সাহিত্য চর্চাও করতেন। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় সৃষ্ট সবচেয়ে জনপ্রিয় চরিত্র হল ব্যোমকেশ বক্সী। ব্যোমকেশ একজন ডিটেকটিভ। নিজেকে তিনি সত্যান্বষী বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন। ১৯৩২সালে ব্যোমকেশের আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল। ওই সময় কয়েক মাসের ব্য়বধানে প্রকাশিত হয়েছিল পথের কাঁটা, সীমান্ত হীরা এবং সন্ত্যান্বেষী।

প্রথমে শরদিন্দু অজিতের কলমে লিখতেন। কিন্তু পরবর্তীকালে তিনি তৃতীয়পুরুষে লিখতে শুরু করেন। এছাড়া উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে আছে বিভিন্ন ঐতিহাসিক উপন্যাস। যেমন ‘কালের মন্দিরা’, ‘গৌর মল্লার’, ‘তুমি সন্ধ্যার মেঘ’, ‘তুঙ্গভদ্রার তীরে’, ইত্যাদি। সামাজিক উপন্যাস যেমন ‘জাতিস্মর’, ‘বিষের ধোঁয়া’ বা অতিপ্রাকৃত নিয়ে তার ‘বরদা সিরিজ’ ও অন্যান্য গল্প এখনো বেস্টসেলার। শরদিন্দু ছোটগল্প ও শিশুসাহিত্য রচনাতেও পারদর্শী ছিলেন।

তিরিশের দশকে ভূমিকম্পের জেরে বিরাট ক্ষতি হয়েছিল মুঙ্গেরে তাদের বাড়িটির। তাছাড়া ওই সময় তাঁরা বাবার পসার কমে আসছিল । সংসারের দায় ভার বাড়ছিল। ফলে রোজগারের অন্য পথ দেখতে হচ্ছিল। সেই সময় আবার বম্বে টকিজের হিমাংশু রায় তাঁর ইউনিটের জন্য চিত্রনাট্যকার খুজছিলেন। প্রথমে তিনি এই কাজের জন্য তারাশংকর বন্দ্য়োপাধ্যায়কে অনুরোধ করেছিলেন কিন্তু এ কাজে তিনি রাজি হলেন না। এই সময় হিমাংশুর রায়ের আত্মীয় তথা সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ সুরেন্দ্রকুমার দাশগুপ্ত তাঁকে শরদিন্দুর কথা বলেন। এমনিতেই ছাত্র জীবন থেকে সিনেমার প্রতি আগ্রহ ছিল শরদিন্দুর। তখন তিনি মূলত বিদেশি ছবিই দেখতেন, কদাচিৎ তিনি দেখতে যেতেন দেশের ছবি। তখন সিনেমা নিয়ে কিছু করার ব্যাপারে প্রভাবিত হয়েছিলেন বিদেশি ছবি দেখেই। তখন এমন অফার আসায় তা গ্রহণ করলেন। সেই সময় বম্বে টকিজের জন্য, ভাবী, বচন, দুর্গা, কঙ্গন,নবজীবন, আজাদ, পুনর্মিলন – এই সাতটি ছবি জন্য় গল্প লিখেছিলেন তিনি। তিনি ইংরেজিতেই তা লিখতেন পরে তা হিন্দিতে অনুবাদ করে নেওয়া হত। কিন্তু এই কাজ করতে গিয়ে বাণিজ্যিক ফরমায়েসের সঙ্গে তাল মিলিয়ে লিখতে গিয়ে বেশ অসুবিধাই হচ্ছিল তাঁর। বুঝলেন সিনেমার জন্য এভাবে গল্প লেখায় তার সঙ্গে টাকার যোগ থাকায় তা মানিয়ে নেওয়া কঠিন। এই সময় আবার বম্বে টকিজের এনআর আচার্য প্রোডাকসন হাউজ খুললে সেখানে ফ্রিলান্সের ভিত্তিতে চিত্রনাট্য লেখা শুরু করেন। এমন লেখালেখির কাজ করলেও মন ভরছিল না। এদিকে অবশ্য বেশ কয়েক বছর কেটে গিয়েছে । ছেলেরা উপার্জন শুরু করে দিয়েছে ফলে সংসারের দায় কিছুটা লাঘব হয়েছে । ফলে ছেলেদের সঙ্গে কথা বলে সিনেমার চিত্রনাট্য লেখার বদলে ফের আগের মতো সাহিত্য কর্মে ফিরলেন তিনি।

১৯৭০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে শরদিন্দু বন্দ্য়োপাধ্যায়ের মৃত্যু হয়। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে রবীন্দ্র পুরস্কার (উপন্যাস ‘তুঙ্গভদ্রার তীরে’র জন্য), শরৎস্মৃতি পুরস্কার, মতিলাল পুরস্কার । তবে আবার তাঁর সাহিত্য় সৃষ্টি থেকেও বেশ কিছু সিনেমা হয়েছে । তাঁর লেখা থেকে সত্য়জিৎ রায় চিড়িয়াখানা, তপন সিংহ ঝিন্দের বন্দী , তরুর মজুমদার দাদার কীর্তির মতো ছবি উপহার দিয়েছেন দর্শকদের।সম্প্রতি তাঁর সৃষ্ট ব্যোমকেশ চরিত্রটি নিয়ে এই প্রজন্মের বেশ কিছু পরিচালককেও ছবি করতে দেখা যাচ্ছে।

তথ্যঋণ- ইন্টারনেট এবং ইউকিপিডিয়া

The post চিত্রনাট্যকার রূপে জীবনের একটা সময় কেটেছে শরদিন্দু বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper.



from Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper https://ift.tt/3cAaHGg
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post