সরকারি নির্দেশেও হেলদোল নেই, পিছল পাওয়ার প্ল্যান্ট ‘শোধন’-এর কাজ

নয়াদিল্লি : কয়লার চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিকে প্রাকৃতিক ভাবে সুরক্ষিত করে তোলার ভাবনা আরও পিছিয়ে দেওয়া হল। এমনটাই জানা গিয়েছে সরকারের নয়া বিজ্ঞপ্তিতে। জানা গিয়েছে পুরো বিষয়টি তিন বছর পিছিয়ে গিয়েছে। এও জানানো হয়েছে যে প্ল্যান্টগুলিকে ওই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যারা পূর্ব নির্ধারিত সময়সীমায় তাদের প্ল্যান্টকে প্রাকৃতিক ভাবে সুরক্ষিত করে তোলার কাজ শুরু করেননি তাদের ‘পেনাল্টি’ দিয়ে নতুন করে কাজ শুরু করতে হবে।

জানা গিয়েছে ভারত সরকার প্রাথমিকভাবে বলেছিল যে সমস্ত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে সালফার ডাই অক্সাইড নিঃসরণ করে সেগুলির চিমনিতে যেন দ্রুত ‘ডিসালফারাইজেশন’-এর ব্যবস্থা করে। কিন্তু সেগুলি কোনওভাবেই এই কাজ করে উঠতে পারেনি। বছরের পর বছর কেটেছে, একের পর এক ডেডলাইন পেরিয়েছে কিন্তু সেই কাজ হয়নি। ২০১৭ ডেডলাইন পিছিয়ে পিছিয়ে গত পয়লা এপ্রিল করা হল ২০২২ সাল।

পরিবেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, যে সমস্ত প্ল্যান্টগুলি জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলের বেশি কাছে অবস্থান করছে তাদের এই কাজ ২০২২ সালের মধ্যে শেষ করতে হবে। দিল্লির সমস্ত প্ল্যান্টের জন্য ডেডলাইন ২০২২। আর যে প্ল্যান্টগুলি একটু দূরে রয়েছে তাঁদেরকে এই কাজ শেষ করতে হবে ২০২৫ সালের মধ্যে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি সংস্থা এনটিপিসি থেকে শুরু করে অম্বানি, আদানির মত বেসরকারি পাওয়ার প্ল্যান্টগুলিকেও এই বিষয়ে দ্রুত কাজ করার কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু জানা গিয়েছে অতিরিক্ত খরচ বহনের বাহানায় এই কাজ দিনের পর দিন ফেলে রেখে দিয়েছে। প্রত্যেকটি পাওয়ার প্ল্যান্টকে তাদের অবস্থান জানাতে বলা হয়েছে। কারণ পরিবেশ মন্ত্রক জানিয়েছে , প্ল্যান্টের অবস্থানের ভিত্তিতে এর ডেডলাইন ঠিক করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী তিনটি আলাদা ক্যাটাগরি করা হচ্ছে। সেভাবেই দেওয়া হবে কাজের সময়সীমা। এই কাজের জন্য ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে টাস্ক ফোর্স। এই তথ্যের ভিত্তিতেই হবে কাজ।

ভারতে চিরাচরিত শক্তির উৎসসমূহের মধ্য‌ে কয়লা যে সর্বপ্রধান, সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। ভারতে শক্তি চাহিদার প্রাথমিক পঞ্চাশ শতাংশ মেটানো হয় কয়লা থেকে। বিষয়টি আরও খোলসা করে বোঝার জন্য‌ যদি আমরা বিদ্য‌ুৎ উৎপাদনের কথা বিবেচনা করি তা হলে দেখা যাবে দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্য‌ুতের ৬৯ শতাংশ কয়লাচালিত তাপ বিদ্য‌ুৎকেন্দ্র থেকে উৎপন্ন হয়। ভারত সরকারের কয়লা মন্ত্রকের ওয়েবসাইট অনুযায়ী ১৯৭০ সালে কয়লাখনি জাতীয়করণের সময় দেশের বার্ষিক কয়লা উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৭০ মিলিয়ন টন। ২০১২-১৩ আর্থিক বছরে সেই উৎপাদন বেড়ে হয়েছে ৫৫৭.৬৬ মিলিয়ন টন। দ্বাদশ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাকালে ২০১৬-১৭ আর্থিক বছরের মধ্য‌ে কয়লা উৎপাদনের বার্ষিক লক্ষ্য‌মাত্রা ধার্য হয়েছে ৭৯৫ মিলিয়ন টন। অথচ সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথারিটির হিসাব অনুযায়ী দ্বাদশ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার অন্তিম বছরে (২০১৬-১৭) শুধুমাত্রা তাপবিদ্য‌ুৎ উৎপাদনের জন্য‌ কয়লার চাহিদা দাঁড়াবে ৯১৩.২২ মেট্রিক টন। অর্থাৎ অভ্য‌ন্তরীণ উৎপাদনের ক্ষমতার নিরিখে ঘাটতির হার দাঁড়াবে প্রায় ২০ শতাংশ।

The post সরকারি নির্দেশেও হেলদোল নেই, পিছল পাওয়ার প্ল্যান্ট ‘শোধন’-এর কাজ appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper.



from Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper https://ift.tt/3ufOZ04
إرسال تعليق (0)
أحدث أقدم