তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: সুখের সেদিন আর নেই। হাতে গোনা পাঁচ অক্ষরের শব্দবন্ধ ‘লক ডাউন” দেড় মাসের মধ্যে ওলট পালট করে দিল অনেক কিছুই। এক সময়ের বাঁকুড়ার সোনামুখীর জগদ্বিখ্যাত পাগড়ি শিল্প আজ ধুঁকছে। সৌজন্যে সেই বহু চর্চিত ও এই মুহূর্তের বহু আলোচিত ‘লকডাউন’।
একদিকে কালী-কার্তিকের জন্য যেমন বিখ্যাত বাঁকুড়ার এই প্রাচীণ পুর শহর। তেমনি এখানকার শ্যামবাজারের তাঁতিদের তৈরি পাগড়ির জন্যও কাবুলিওয়ালারা এসে ভিড় করতো সোনামুখীতে। পাইকারিহারে এখানকার পাগড়ি কিনে পাড়ি জমাতো নিজেদের দেশে।
গত কয়েক বছর ধরে সে ছবিটাও ফিকে হয়ে আসছিল। আর ‘করোনা’ এসে আরও, আরও বেশী ফিকে করে দিল। এক দিকে পাগড়ি তৈরির কাঁচা মালের যোগান নেই, অন্যদিকে কাবুলিয়ালা বা অন্যান্য ক্রেতাদেরও দেখা নেই। ফলে চরম অস্তিত্ব রক্ষার সংকটে ভূগছে এক সময়ের বিখ্যাত এই পাগড়ি শিল্প। আর সংসারে টান পড়ছে পাগড়ি তৈরীর সঙ্গে যুক্ত একটা বড় অংশের শিল্পীদের।
প্রবীণ পাগড়ি শিল্পী রামসত্য দে বলেন, লক ডাউনের কারণে একদিকে কাঁচা মালের জোগান নেই। অন্যদিকে বাড়িতে যা তৈরী আছে সেগুলোও বিক্রি হচ্ছেনা। ফলে চরম আর্থিক সমস্যায় দিন কাটাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি বাজারে স্বল্প মূল্যের পলিয়েস্টার সুতোর তৈরী পাগড়ি চলে আসায় প্রতিযোগীতায় তারা পিছিয়ে যাচ্ছেন। যেখানে পলিয়েস্টার সুতোর পাগড়ি পাঁচশো টাকায় মেলে, সেখানে তাদের তৈরি রেশমের পাগড়ির দাম ন্যুনতম দু’হাজার টাকা। ফলে দিনের পর দিন বিক্রি কমছে।
মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে চাকরি পেয়ে বাপ-ঠাকুর্দার পেশাতেই যোগ দিয়েছেন বরুণ গরাই। এই তরুণ তাঁত শিল্পী বলেন, দিনে দিনে পাগড়ির চাহিদা কমছে। ফলে তারা জীবন জীবিকার স্বার্থে বাধ্য হয়েই বিভিন্ন ধরণের শাড়ি তৈরিতে মন দিয়েছেন।
পুরপ্রধান সুরজিৎ মুখোপাধ্যায় বলেন, একটা সময় ছিল কাবুলিওয়ালাদের গাড়ির শব্দে সোনামুখীর মানুষের ঘুম ভাঙত। এখন কাবুলিওয়ালাদের দেখা না মিললেও শিল্পীরা নিজেরাই সরাসরি কলকাতায় নিজেদের তৈরি পাগড়ি পৌঁছে দেন। তবে বর্তমান সময়ে পাগড়ির চাহিদা কমায় অনেক শিল্পীই শাড়ি তৈরি করছেন বলেও তিনি জানান।
The post ‘নেই কাবুলিওয়ালা, নেই ছোট্ট মিনি’: চরম অর্থ সংকটে ভুগছেন পাগড়ি শিল্পীরা appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper.
from Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper https://ift.tt/3fOtEnW