স্বাস্থ্যবিধি মেনেই রাজ্যের এই এলাকায় রথের রশিতে টান

স্টাফ রিপোর্টার , হাওড়া : পুরী ছাড়া আর কোথাও গড়িয়েছে রথের চাকা? মাহেশ? ইস্কন? গুপ্তিপাড়া? কোথাও? উত্তর মিলবে একটাই। না , না এবং না। কিন্তু না…তথ্য সম্পূর্ণ নয়। প্রত্যন্ত গ্রামেও গড়াল রথের চাকা। রাস্তা দিয়ে গেল রথ। তবে প্রশাসনের সম্মতি নিয়েই গড়াল সেই রথ। সমাগম ছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

অন্যান্য বছরের মতো এবারও রথযাত্রা উৎসব পালিত হল গ্রামীণ হাওড়ার রাণীহাটিতে। তবে কোনও লোকসমাগম, মেলার আয়োজন ছিল না। রাণীহাটি চৌরাস্তা থেকে নাবঘরা জেলেপাড়া পর্যন্ত রথ টানেন নাবঘরা গৌড়ীয় আশ্রমের সদস্যরা। রথের দিন দুপুর নাগাদ আশ্রমের সদস্যরা রথের রশিতে টান দেন। তবে প্রত্যেকের মুখে ছিল মাস্ক। রথকে সুষ্ঠভাবে মাসিরবাড়ি পৌঁছে দিতে পুলিশের তরফেও কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়।

প্রসঙ্গত , সুপ্রিম কোর্টের সম্মতি নিয়েই অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত ভাবে পুরীর রথযাত্রা হয়। সোমবার শীর্ষ আদালত কোভিড-বিধি মেনে রথযাত্রা আয়োজনের বিষয়টি ওডিশা সরকার, মন্দির কর্তৃপক্ষ এবং কেন্দ্রের বিচক্ষণতার উপরে ছাড়ে। তারপরেই জরুরি বৈঠকে বসেন ওডিশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার রাত ৯টা থেকে পুরী জেলা সম্পূর্ণ শাটডাউনের আওতায় চলে যাওয়া হয়, যা থাকবে আজ বুধবার দুপুর ২টো পর্যন্ত। ভক্তদের জমায়েত তো দূর স্থান, পুরীতে ঢোকা-বেরনোর সমস্ত রাস্তা এবং গণপরিবহণ বন্ধ রাখা হয়েছে।

আদালতের নির্দেশমতো, তিনটি রথের দড়ি টানেন ৫০০ জন। করোনা-পরীক্ষার পরে নিশ্চিত হয়েই এই ৫০০ জনকে বেছে নেওয়া হয়। সোমবার বিকেল থেকে ১১৪৩ জনের করোনার পরীক্ষা হয় পুরীর মন্দিরে। মঙ্গলবার ভোরে রিপোর্ট এলে দেখা যায় একজনের শরীরে করোনার জীবাণু রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এঁদের মধ্যে মন্দিরের সেবায়েত এবং পুলিশকর্মীরাও ছিলেন। একটি রথ যাওয়ার কমপক্ষে একঘণ্টা পরে অন্য রথটি যাবে বলে বলা হয়। সামাজিক দূরত্ব মেনে রথের রশি টানতে হবে এই কথাও বলা হয়। যাঁরা রথ টানবেন, তাঁদের সকলের স্বাস্থ্যের রেকর্ড ছিল সরকারের কাছে।

মঙ্গলবার সকালে প্রথমে পুরো মন্দির চত্বর স্যানিটাইজ করে দেওয়া হয়। তারপর শুরু হয় রথের সাজানোর কাজ। এর পর মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে প্রথমে বের করে নিয়ে আসা হয় ভগবান বলরাম বা বলভদ্রদেবের মূর্তি। শ্রীখোল-করতাল বাজিয়ে চলে কীর্তন। অন্যদিকে পুরোহিত ও সেবায়েতরা কাঁধে করে নিয়ে আসেন বলরাম, সুভদ্র ও জগন্নাথদেবকে। এর পর রথে ওঠানো হয়। বিগ্রহ রথে তোলার পর প্রাচীন রীতি অনুসারে ওডিশার গজপতি মহারাজা পথ পরিস্কার করেন সোনার ঝাঁটা দিয়ে। মঙ্গলমন্ত্র উচ্চারণ করে রথের দড়ি ধরে টান দেন।

The post স্বাস্থ্যবিধি মেনেই রাজ্যের এই এলাকায় রথের রশিতে টান appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper.



from Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper https://ift.tt/2VcOHYW
إرسال تعليق (0)
أحدث أقدم