শুভদীপ রায় চৌধুরী: শারদীয়ার সূচনা হয়েই গেছে কৃষ্ণানবমী তিথি থেকে, এবারও কোন কোনও বনেদিবাড়িতে ষষ্ঠীর দিন বোধন হয় আবার কারোর হয় প্রতিপদতিথিতে। বিভিন্ন বাড়ির ভিন্ন ভিন্ন রীতি, সেই রীতিনীতিতে আজও উজ্জ্বল বাংলার সংস্কৃতি ও বনেদিয়ানা। মায়ের আরাধনায় সকলে মেতে ওঠে ঠাকুরদালানের ঝাড়বাতিতে আর আবেগে। তেমনই এক পুজো অনুষ্ঠিত হয় কলকাতার ভট্টাচার্য্য বাড়িতে, সেই পুজোর রীতিনীতি নিয়েই আজকের পর্ব।
আজ থেকে প্রায় ১০৭ বছর আগে উত্তর কলকাতার বিডন স্ট্রিটে দুর্গাপুজো শুরু হয় ভট্টাচার্য্য বাটীতে। এই পরিবারের দুর্গাপুজো শুরু করেন শ্রী রাজকুমার ভট্টাচার্য্য। মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়ে মায়ের পুজো শুরু করেছিলেন রাজকুমার বাবু। প্রথম দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন ভট্টাচার্য্য বাটীতেই তবে খুবই সাধারণ ভাবে। তিনি পূজা শুরু করেন ভট্টাচার্য বাড়ির মন্দিরে তবে চাকচিক্য হীন সাদামাটা ভাবে।এই ভাবে কিছু বছর কেটে যাওয়ার পর রাজকুমার ভট্টাচার্য তাঁর মায়ের পূজা তাঁর পাঁচ ছেলের হাতে মাকে সপেদেন এবং তিনি অর্থাৎ রাজকুমার ভট্টাচার্য শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
এই ভাবে কিছু বছর কেটে যাবার পর রাজকুমার ভট্টাচার্য এর দ্বিতীয় পুত্র স্বর্গীয় সারদা চরণ শাস্ত্রীর (প্রসঙ্গত বলে রাখি সারদা চরণ শাস্ত্রী ছিলেন শ্রী শ্রী বামাক্ষেপার শেষ শিষ্য ছিলেন) সহধর্মিণী শ্রীমতী মনিমালা দেবীর খুব ইচ্ছা ছিল কন্যা সন্তানের তাই তিনি মায়ের কাছে প্রার্থনা করতেন একটা কন্যা সন্তানের। এই ভাবে কিছু দিন যাবার পর মা মহামায়া মনিমালা দেবী কে স্বপ্নে দেখা দেন এবং নির্দেশ দেন “এই ভট্টাচার্য বাড়িতে মায়ের মূর্তি পূজা শুরু করতে। এবং মা বলেন তার অঙ্গের রঙ হবে শিউলি ফুলের বোটার রঙের।এবং মা বলেন তাকে চণ্ডিকা রূপে পূজা করতে”এই বলে মা অন্তর্ধান হয়ে যান। এর কিছু মাস পর ভট্টাচার্য বাড়িতে এক কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহণ করে।এইভাবে মায়ের পূজার সূচনা হয় ভট্টাচার্য বাড়িতে। এবং আজও সেই একই নিয়ম ধরাই পূজা হয়ে আসছে।তবে আগেকার মত সেই জৌলুস নেই। কিন্তূ মায়ের পূজার কোনো খামতি হয় না।
ভট্টাচার্য বাড়িতে মায়ের পূজা শুরু হয় পঞ্চমীর দিন সন্ধে বেলাতে অধিবাস দিয়ে আর সমাপ্তি হয় অপরাজিতা পূজার মধ্যে দিয়ে। মায়ের ভোগের ক্ষেত্রে বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়। ষষ্ঠীর দিন লুচি পায়েস,সপ্তমীতে খিচুড়ি,ভাজা,তরকারি,মিষ্টি,অষ্টমীতে মায়ের লুচি,ভাজা,পাঁচ ছয় রকমের তরকারি,পায়েস,মিষ্টি,পান আর নবমীর দিন মাকে মাছ ভোগ দেওয়া হয়। মা ভট্টাচার্য বাড়িতে কন্যা রূপে পূজিতা হন। তাই মায়ের বিদায় জয় বরণ কনকানজলি,সিঁদুর খেলার মাধ্যমে। সারাবছর পরিবারের সবাই খুব ব্যাস্ত থাকে কিন্তু পুজোর কটা দিন পুরো পরিবার (৪৫জন) একসাথে মিলে মায়ের আরাধনা করা হয়।
কৃতজ্ঞতা স্বীকার:- শ্রী সৌরভ ভট্টাচার্য্য
তথ্য লিপিবদ্ধে:- শ্রীমান শুভদীপ রায় চৌধুরী
বাড়ির ঠিকানা:- ৯৬ বিডন স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০৬
The post বিডন স্ট্রিটের ভট্টাচার্য্য বাড়ির পুজোয় আজও মেলে বনেদিয়ানার গন্ধ appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper.
from Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper https://ift.tt/3mBAReF