শিবপ্রিয় দাশগুপ্ত : তৃতীয় দফায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৬টি বিধানসভায় নির্বাচন। এই ৬টি বিধামসোভার মধ্যে রয়েছে বারুইপুর পূর্ব, বারুইপুর পশ্চিম, ক্যানিং পূর্ব, ক্যানিং পশ্চিম, মগরাহাট পূর্ব, মগরাহাট পশ্চিম। তবে এই ৬টি বিধানসভায় ধর্ম, কর্ম, ভয় এই তিন ইস্যুতে এবার নির্বাচন হচ্ছে। কেউ বলছে ধর্মস্থানের কথা , কেউ বলছে কর্মসংস্থানের কথা কেউ বলছে আমায় ভোট দিলে খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা সব “ফ্রি”। এই আবহে বারুইপুরের ৬টি বিধানসভায় তৃতীয় দফায় ৬ এপ্রিল নির্বাচন হতে চলেছে। মানুষ সম্ভবত ঠিক করে নিয়েছেন কোন বিকল্প তাঁরা বেছে নেবেন। আর সেটা বুঝেই চিন্তায় প্রার্থীরা।
এই বিধানসভাগুলিতে ২০১৬ সালে তৃণমূল নিজেদের ক্ষমতা বজায় রেখেছিল। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে এবং লোকসভা নির্বাচনের নিরিখেও এই ৬টি বিধানসভার তৃণমূলই এগিয়ে ছিল। তবে এবার এই সংযুক্ত মোর্চার তরফে এই ৬টি বিধানসভার মধ্যে ২টি বিধানসভায় আব্বাস সিদ্দিকীর দল প্রার্থী দিয়েছে। তাই সংখ্যালঘু এলাকায় ভোট কাটাকুটি নিয়ে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
তবে সংখ্যালঘুরা বিজেপি-র ভাষণে এই আসনগুলোতে কিছুটা শঙ্কিত। নিরাপত্তাহীনতায় সংখ্যালঘুরা কিছুটা থমকে রয়েছে। বিজেপির আসল পরিবর্তন মানে সি এ এ -র ভয়, আছে আসল পরিবর্তনের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েও ভয়।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার অর্থনীতি মূলত কৃষি নির্ভর। তবে এই এলাকার কৃষকদের অভিযোগ তাদের অঞ্চলে ফড়ে , দালালদের উৎপাত রয়েছে। রাজ্য সরকার সেই বিষয়ে নীরব। রাজ্যের শাসক দলের সঙ্গে এই ফড়ে , দালালদের দাপট আছে। ফলে ধান, পাট চাষ করেও চাষিরা দাম পাচ্ছে না। আর ঠিক এই বিষয়গুলোকেই প্রচারে আছে বিজেপি, সংযুক্ত মোর্চা। তাই কৃষকরা একদিকে ফসলের দাম পাওয়ার জন্য সংযুক্ত মোর্চা বা বিজেপি-র পক্ষে যেতে রাজি থাকলেও আসল পরিবর্তন হলে কী হবে সেটা ভেবেই তারা নাকাল। এখানেই আছে ফলটা এসইজেড, বানতলা চর্ম নগরী, এবং তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের অবস্থান। ফলতায় আগে কাজ করতো ১৪ হাজার কর্মী, সেটা এখন ৯ হাজারে নেমে এসেছে। বানতলা চর্মনগরী ও তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে কর্মী সংখ্যা ৯০ হাজার থেকে হ্রাস পেয়ে ৪০ হাজারে পৌঁছেছে। এই আবহে প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে প্রচারে নেমেছে তৃণমূল আর বিজেপি। দু’দলই তাদের নির্বাচনী ইস্তাহারে ভুরি ভুরি “ফ্রি” পরিষেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এই “ফ্রি” প্রতিশ্রুতির দৌড়ে তৃণমূল, বিজেপি-র থেকে পিছিয়ে সংযুক্ত মোর্চা। তাদের প্রতিশ্রুতি চাকরি, স্থায়ী উন্নয়ন।
এই আবহেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৬টি বিধানসভায় ৬ এপ্রিল বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে। প্রচারও চলেছে দাপিয়ে। হিসেবে বলছে ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে এই ৬টি আসনেই তৃণমূল জয় পেলেও দ্বিতীয় স্থানে ছিল বাম, কংগ্রেস জোট। কিন্তু ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে এই ৬টি বিধানসভাতেই দ্বিতীয় স্থানে চলে এসেছে বিজেপি।,অথচ ক্যানিং পূর্ব, ক্যানিং পশ্চিম, মগরাহাট পূর্ব, মগরাহাট পশ্চিম এই চার বিধানসিভায় ১৫ জানুয়ারী ২০২১-এ প্রকাশিত ভোটার তালিকায় দেখা যাচ্ছে সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা ৫০ থেকে ৬০% । আবার বারুইপুর পূর্ব, বারুইপুর পশ্চিমে সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা ৩০%। প্রশ্ন তাহলে কী সংখ্যালঘুরা বিজেপিকে উজাড় করে ভোট দিয়েছে? উত্তর বলছে না। আসলে সিপিএম-এর ২০১৬-র ভোট ২০১৯-এ বিজেপিকে শক্তিশালী করেছে। কিন্তু ২০১৪ থেকে ২০১৯ ও তার পরে ২০২১ পর্যন্ত বিজেপির দেওয়া প্রতিশ্রুতি এবং তৃণমূল সরকারের দেওয়া গত ১০ বছরের প্রতিশ্রুতির ওপর দাঁড়িয়ে এবার নির্বাচন। তাছাড়া এবার বামেদের কাছে বিকল্প সংযুক্ত মোর্চা। তাই এবার অন্যরকম কিছু যে হবে না সেটা ভাবা অনুচিত।
তৃতীয় দফার দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই ৬টি বিধানসভায় উল্লেখযোগ্য প্রার্থী রয়েছেন তৃণমূল, বিজেপি ও সংযুক্ত মোর্চায় ।বারুইপুর পূর্ব কেন্দ্রে নির্মল মণ্ডল প্রাক্তন বিধায়ক প্রার্থী হননি। তাঁর জায়গায় প্রার্থী হয়েছেন বিভাস সর্দার। ক্যানিং পশ্চিমের প্রাক্তন বিধায়ক শ্যামল মণ্ডল এবার বাসন্তীর প্রার্থী। ক্যানিং পশ্চিমের এবারের তৃণমূল প্রার্থী পরেশরাম দাস। বারুইপুর পশ্চিমে প্রার্থী এই বিধানসভার প্রাক্তন বিধ্যপক ও বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মগরাহাট পশ্চিমে তৃণমূল প্রার্থী গিয়াসুদ্দিন মোল্লা। তবে এই তবে ক্যানিং পূর্বে সংযুক্ত মোর্চার সমর্থনে আইএসএফ-এর প্রার্থী সাহাবুদ্দিন সিরাজি -র সমর্থনে তরুণ প্রজন্ম রয়েছে। এই কেন্দ্রে আব্বাসের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। তবে এরই মধ্যে তৃণমূল ডিজে-তে খেলা হবে বাজিয়ে প্রচার চালাচ্ছে।
The post তৃতীয় দফায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৬টি বিধানসভায় চিন্তায় তৃণমূল, বিজেপি appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper.
from Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper https://ift.tt/39E0Kp8